বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি
বাংলাদেশ প্রতিনিধি ; একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট।পাশাপাশি সেই সময়ের কী পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, কী অবস্থায় আছে সে বিষয়ে আগামি ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) এ আদেশ দেন বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মঈন উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ।রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না এবং মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিটটি দায়ের করা হয়।
এতে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো বিক্রি ও স্থানান্তর অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ওইসব অস্ত্র সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোনো সংগঠনে হস্তান্তরে নির্দেশনা চাওয়া হয়।রিট আবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থসচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে, এমন আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকার বেচে দিতে চায়। সরকারের যুক্তি হচ্ছে এগুলো পুরোনো, অপ্রচলিত এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অকার্যকর। ফলে রাখার কোনো দরকার নেই। প্রাচীন নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন (অ্যান্টিক সুভ্যেনির) হিসেবে অস্ত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও সুইজারল্যান্ডের একটি অস্ত্র আমদানিকারক কোম্পানি।

Post a Comment